
বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা অনেক সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীর মধ্যে বর্তমানে এক ধরনের হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যারা নিয়মিত সরকারের উন্নয়ন ও সাফল্যের প্রচার করতেন এবং ক্ষমতাসীনদের পক্ষে ইতিবাচক সংবাদ ও বক্তব্য গণমাধ্যমে তুলে ধরতেন, তাদের একটি অংশ রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর অবস্থান পরিবর্তন করে বিএনপির বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক সংবাদ প্রচারে সক্রিয় হয়েছেন।
বাংলাদেশের গণমাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব ও মালিকানাগত স্বার্থের বিষয়ে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনেও রয়েছে
তাহলে বিএনপিপন্থী সাংবাদিকদের
বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা কিছু সাংবাদিকের অভিযোগ, দলের দুঃসময়ে যারা মাঠে ছিলেন, মামলা-হামলা ও নানা চাপের মধ্যেও বিএনপির কর্মসূচি কাভার করেছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর তাদের অনেকেই কাঙ্ক্ষিত গুরুত্ব বা পেশাগত সহযোগিতা পাচ্ছেন না।
অন্যদিকে, কিছু নেতা-কর্মী নিউজ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও পরবর্তীতে প্রতিশ্রুত সম্মানী বা পেশাগত পারিশ্রমিক না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কারও কারও বিরুদ্ধে ফোন না ধরা কিংবা যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এর ফলে সাংবাদিকদের একটি অংশের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে—যারা দলের দুঃসময়ে পাশে ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন কোথায়?
মিডিয়া কি শুধু রাজনৈতিক আনুগত্যের ওপর চলবে?
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সাংবাদিকের কাজ কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে সংবাদ তৈরি করা নয়; সাংবাদিকের কাজ হলো তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা।
একইভাবে রাজনৈতিক দলগুলোরও উচিত সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতাকে সম্মান করা এবং সংবাদ কাভারেজকে ব্যক্তিগত অনুগ্রহ বা রাজনৈতিক আনুগত্যের সঙ্গে না মেলানো।
বিএনপি নেতারাও অতীতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। ২০২৫ সালের আগস্টে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্বাধীন ও স্বচ্ছ সাংবাদিকতার কথা বলেন এবং সম্পাদকীয় ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, কিন্তু সমাধান কোথায়?
বিএনপির মিডিয়া কার্যক্রম শক্তিশালী করতে হলে শুধু বড় বড় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের চেষ্টা করলেই হবে না। স্থানীয় ও তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করা সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত পেশাগত যোগাযোগ তৈরি করতে হবে।
একই সঙ্গে—
– সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রতিশ্রুত পেশাগত লেনদেনে স্বচ্ছতা;
– সংবাদ ও প্রেস রিলিজ সময়মতো সরবরাহ;
– দলীয় কর্মসূচির তথ্যের জন্য নির্দিষ্ট মিডিয়া সমন্বয়কারী;
– স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ;
– সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা;
– সাংবাদিকদের রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে পেশাগত দক্ষতার মূল্যায়ন;
– এবং সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান
নিশ্চিত করা জরুরি।
দলের দুঃসময়ে যারা সংবাদ সংগ্রহ করেছেন, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক যেমন গুরুত্বপূর্ণ; তেমনি নতুন বাস্তবতায় গণমাধ্যমের সঙ্গে পেশাদার ও স্বচ্ছ সম্পর্ক গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক দলের শক্তি শুধু মাঠের কর্মী দিয়ে নয়—সঠিক তথ্য, দক্ষ যোগাযোগ এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেও মানুষের কাছে পৌঁছায়।
Leave a Reply