
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন আগারগাঁও মার্কেট এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের একটি মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মিছিলের প্রস্তুতিকালে শ্রমিকলীগের ওবায়দুল নামের এক ব্যক্তিকে জনতা আটক করে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিছিলের প্রস্তুতিতে থাকা ব্যক্তিদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতির একপর্যায়ে কয়েকজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এ সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সহযোগিতার অভিযোগে কয়েকজনকে ধাওয়া করা হয় বলেও দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
মিছিলের প্রস্তুতি নিয়ে উত্তেজনা সংরক্ষিত ভিডিও-ছবির ভিত্তিতে জানা যায়, আগারগাঁও মার্কেট এলাকায় একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মিছিলের প্রস্তুতি চলাকালীন ঘটনাস্থলে লোকজনের উপস্থিতি ও পরবর্তী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার আটক কৃত ওবায়দুল ভিডিও বক্তব্য দৃশ্য দাবি।
এ ঘটনায় ২৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য কুদ্দুস, ছাত্রলীগের সদস্য রায়হান এবং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের অন্যান্য সদস্যরা ও উল্লেখ্য যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে কুদ্দুস ও রায়হান উল্লেখিত ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা কথা শিকার করেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিছিলের প্রস্তুতি, সহিংসতার পরিকল্পনা কিংবা বিস্ফোরক সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে ওবায়দুল বক্তব্য শিকার করেন ও ব্যাগ কি ছিল জানিনা রায়হান মা এসে দিয়ে গেছে বলে কয়েক জন আসবে তাদের দিতে।
কালো ব্যাগে বিস্ফোরক থাকার অভিযোগ
ঘটনার পর আটক ওবায়দুলের কথিত বক্তব্যকে ঘিরে আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, রায়হান নামের এক ব্যক্তি ওবায়দুলের কাছে একটি কালো ব্যাগ দিয়েছিলেন। ওই ব্যাগটি পরবর্তী সময়ে কয়েকজনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আরও অভিযোগ করা হচ্ছে, ব্যাগটির মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং ককটেল বিস্ফোরণের পরিকল্পনা ছিল। তবে ব্যাগের ভেতরে কী ছিল, সেটি উদ্ধার হয়েছে কি না এবং কোনো বিস্ফোরক পাওয়া গেছে কি না—এসব বিষয়ে এখনো পুলিশের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: কথিত ব্যাগটি কোথায়? সেটি কি পুলিশ উদ্ধার করেছে? উদ্ধার করা হয়ে থাকলে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল বা বিশেষজ্ঞরা কি পরীক্ষা করেছেন? তদন্তে এসব তথ্যই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ওবায়দুলের বক্তব্যে উঠে আসা অভিযোগ
আটক ব্যক্তির কথিত বক্তব্যের বরাতে যে অভিযোগগুলো সামনে এসেছে, সেগুলো হলো
– ছাত্রলীগের রায়হান তাকে একটি কালো ব্যাগ দিয়েছিলেন।
– ব্যাগটি অন্য আরো কয়েকজনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
– ব্যাগটি ব্যবহার করে আতঙ্ক সৃষ্টি ও ককটেল বিস্ফোরণের পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের কাছে জনতার সোপর্দ, তদন্তের দাবি
ওবায়দুলকে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এখন প্রশ্ন উঠছে, মিছিলের প্রস্তুতির পেছনে আরো কারা কারা ছিলেন, কুদ্দুস ও রায়হান নির্দেশে এতো লোকজন জড়ো হয়েছিল ? নাকি অন্য কোন উদ্দেশ্য এবং কথিত বিস্ফোরক পরিকল্পনার সঙ্গে আরো কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না।
এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অনুসন্ধানে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে,
১. আগারগাঁও মার্কেটে মিছিলের প্রস্তুতির প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল?
২. আটক ওবায়দুলের সঙ্গে কথিত কালো ব্যাগের সম্পর্ক কী?
৩. রায়হান কুদ্দুস সহ অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের ভূমিকা কী?
৪. কথিত ব্যাগে ককটেল বা বিস্ফোরক ছিল কি না?
৫. ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় ও ভূমিকা কী?
৬. এ ঘটনায় পুলিশ কোনো মামলা, জব্দতালিকা বা তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছে কি না?
আগারগাঁও মার্কেটের ঘটনায় মিছিলের প্রস্তুতি, জনতার হাতে একজনের আটক, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং কালো ব্যাগে বিস্ফোরক থাকার অভিযোগ—সবকিছু মিলিয়ে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংরক্ষিত ভিডিও, ছবি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ও পুলিশের নথি যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করা জরুরি।
Leave a Reply